'সাদা অ্যাপ্রনের নীরব আলো'
উৎসর্গঃ এই কবিতা উৎসর্গ করা হলো সহকারী অধ্যাপক ডাঃ ফরিদুল ইসলামের প্রতি,যিনি মানবতার আলো জ্বালান প্রতিটি ব্যথিত হৃদয়ে।
মোঃ আল এমরান
কৃষকের ঘরে জন্ম নিল স্বপ্নের এক প্রদীপ,
অভাব পেরিয়ে জ্বলে উঠল মানবতার দীপ।
ব্যথার ভাষা বুঝে নিল মমতার স্পর্শে,
ফরিদুল নামের আলো জাগে মানুষের চোখে।
মৃত্তিকার গন্ধে বড় হওয়া নির্ভীক এক মন,
মেরুদণ্ডে ভর দিয়ে সে দেয় আশ্বাস ক্ষণ।
ব্যথা যেখানে নীরব হয় তাঁর হাতের টানে,
মানুষ ফিরে পায় হাঁটার পথ, আশার গানে।
শৈশবের ক্ষুধা শেখায় সেবার মানে,
জননীর চোখে স্বপ্ন বোনা নির্ঘুম প্রহর টানে।
পিতার কাঁধে মাঠের গল্প, শক্ত মাটি,
সেই মাটি ছুঁয়ে গড়ে ওঠে চিকিৎসার জ্যোতি।
ইন্টার্নশিপে দেখা ব্যথা বদলে দিল পথ,
স্পাইন হবে তার সাধনাই এই নিল শপথ।
দেশ বিদেশে বিদ্যা কুড়িয়ে ফিরল সে ঘরে,
মানুষের কষ্ট লাঘব তার জীবনের তরে।
সাদা অ্যাপ্রনে লুকায় কত দীর্ঘ ইতিহাস,
অভাব, সংগ্রাম, প্রতিজ্ঞার নীরব নিঃশ্বাস।
অপারেশন থিয়েটারে রাত জাগা চোখ,
প্রতুষ্যে ফিরেও সে রাখে মানুষের সুখ।
নোয়াখালীর গগনে জ্বলে এক আলোর নাম,
রোগীর চোখে ভরসা, ব্যথায় শান্তির দাম।
চেম্বারের দরজায় লেখা মানবতার ভাষা,
টাকা না থাকলেও খুলে যায় আশার দরজা।
প্রমোশনে দেরি নয়, থামে না তার মন,
সম্মান পায় কর্মে এ বিশ্বাস অটল জন।
মেধা হারায় দেশ, সে বলে দৃঢ় কণ্ঠে,
মূল্যায়নই বাঁচায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে।
ইমারজেন্সির নামে অব্যবস্থা যত,
চাপের বোঝা বাড়ে, কমে সেবার গত।
সে বলে ব্যবস্থা চাই, জনবল চাই আজ,
না হলে ব্যথা বাড়বে, ভাঙবে বিশ্বাস।
গ্রামের এক ভাই হারানো শৈশবের ক্ষত,
ডাক্তার দেখায়নি থেকে গেল ব্যথিত তত।
সেই ক্ষত বুকে নিয়েই সে নিল শপথ,
কেউ মরবে না বিনা চিকিৎসায় এই তার পথ।
কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রশ্ন তোলে সে,
ডাক্তার ছাড়া প্রেসক্রিপশন কেন চলে কে?
প্রান্তিক মানুষের চাই দক্ষ হাতের স্পর্শ,
এমবিবিএসেই মিলবে নিরাপদ আশ্রয়।
কমিশনের অপবাদে সে মাথা নোয়ায় না,
ত্রিশ বছরে অবৈধ এক পয়সাও না।
স্বচ্ছতার আলোয় দাঁড়িয়ে বলে দৃঢ়,
মানুষ জানুক সত্য এই তাঁর নীতি নির্ভর।
শুক্রবারে চেম্বার বন্ধ পরিবারের দিন,
ভারসাম্যেই বাঁচে মানুষ, এই তার ঋণ।
প্রেয়সীর নীরব ত্যাগে ভর করে সে হাঁটে,
সন্তানের হাসিতে ক্লান্তি সব মুছে যায় রাতে।
করোনার আঁধারে পালায়নি সে দূরে,
বাবার পাশে বসে কোরআন পড়ে ভোরে।
চিকিৎসক হলেও আগে সে সন্তান,
মানবিকতার পাঠ দেয় তার প্রতিটি দিনক্ষণ।
বিজ্ঞানের সাথে রাখে বিশ্বাসের সেতু,
আল্লাহর রহমতে ফেরে বহু ক্ষত সেতু।
যেখানে বই থামে, সেখানে জাগে দোয়া,
আশার আলো ফোটে মানুষের প্রাণে।
গুরুদের ঋণ সে ভুলে যায় না কখনো,
বই কিনে দেওয়া সেই হাত আজও শ্রদ্ধার যোগ্য।
ছাত্রের অভাব দেখলে দাঁড়ায় সে পাশে,
শিক্ষাই গড়বে মানুষ এই তাঁর ভাষা।
জয়েন্ট বদলে দেয়, বদলায় জীবনের গতি,
হাঁটার ছন্দে ফেরে মানুষ এ তার কীর্তি।
স্পাইনের ব্যথা বুঝে নীরব চোখে,
চিকিৎসায় নয়, সে সারায় মানুষের বুকে।
রাষ্ট্রের কাছে তার দাবি সরল, স্পষ্ট,
বেড বাড়াও, ডাক্তার দাও এটাই ন্যস্ত।
সংখ্যার সাথে মিলুক সেবার মান,
তবেই হাসবে দেশ, বাঁচবে প্রাণ।
মিডিয়ার কাছে তার অনুরোধ শান্ত,
এক ঘটনায় বিচার কোরো না সমগ্র পন্থ।
ডাক্তারের সম্মান বাঁচুক সমাজে,
তবেই আসবে মেধা সেবার কাজে।
বিদেশে সম্মান পায় আমাদের ছাত্র,
দেশে পায় না মূল্য এ বড় ক্ষত।
সে চায় দেশে ফিরুক মেধার ঢল,
সম্মানই ফিরিয়ে আনবে সেই ফল।
চেম্বারে আসে কেউ চোখে ভয়,
সে বলে ভরসা রাখো, আমি আছি হয়।
ব্যথার ভাষা সে শুনতে জানে,
মানুষকে মানুষে ফেরায় সে প্রাণে।
লেবুতলার মাটি আজ গর্বে ভরা,
তার সন্তান গড়েছে মানবতার ঘরা।
গ্রাম থেকে শহর এক সেতুর নাম,
ডাঃ ফরিদুল ইসলাম সেবার মহাকাব্য গ্রাম।
অক্ষরের নয়, কাজের ভাষা তার,
নীরবে করে যায় মানুষের উপকার।
প্রচার নয়, প্রার্থনা তার শক্তি,
আল্লাহর ওপর ভরসাই তার মুক্তি।
অবসর নেই এই পেশার পথে,
যতদিন শ্বাস, ততদিন সেবার হাতে।
এই অঙ্গীকারে চলে তার দিন,
মানুষের পাশে থাকাই তার ঋণ।
ব্যস্ত শহরে সে এক মানবিক বিরাম,
রোগীর চোখে ফেরায় স্বপ্নের দাম।
ব্যথা কমে, বিশ্বাস বাড়ে,
এই মানুষটিই আশার ধারে।
শিক্ষা সীমাহীন এই তার বাণী,
শেখার পথে থামে না জীবনের কাহিনী।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জ্ঞানের সাধনা,
এই নীতিতেই গড়া তার পথচলা।
আইনের প্রশ্নে আইনজীবী, ধর্মে আলেম,
সঠিক পরামর্শ দেয় যে মানব দেহের তরে।
নোয়াখালীর পথে পথে তার নাম,
মানুষের মুখে ভরসার দাম।
অপারেশন থিয়েটারে জ্বলে ধৈর্য,
হাতের স্পর্শে নেমে আসে সূর্য।
জীবন বদলায়, হাসি ফোটে,
এই সেবাই তাঁর সত্যি ব্রত।
সময়ের সাথে লড়াই করে সে,
মানবতার পতাকা বুকে বয়ে চলে যে।
ঝড়েও নত নয় তার শির,
আদর্শে গড়া তার জীবন গিরির মতো বীর।
শেষে বলি, এ এক আলোর নাম,
ডাঃ ফরিদুল ইসলাম মানবতার গ্রাম।
প্রার্থনা রইল দীর্ঘ হোক পথ,
সেবায় ভরে উঠুক তার প্রতিটি শ্বাসপ্রশ্বাস।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment