ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : 'দলের সরকার নয়, দরকার দশের সরকার' চরপার্বতীতে নুর আলম মেম্বারের আয়োজনে বর্ণাঢ্য ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত: কোম্পানীগঞ্জে পৌর বিএনপি সদস্য সচিব মামুনের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ: 'কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে নতুন কমিটি গঠন,ইফতারে সাংবাদিকদের মিলনমেলা' 'সাংবাদিকদের সম্মানে কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতের ইফতার ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত' 'আলহাজ্ব আব্দুস সাওারের উদ্যোগে বিশাল ইফতার ও মেজবানী আয়োজন' ইঞ্জিনিয়ার নওশাদের আয়োজনে কোম্পানীগঞ্জে সাংবাদিকদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত : কোম্পানীগঞ্জে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত: 'দল প্রথা নিপাত যাক, বাংলাদেশ প্রথা জিতে যাক' 'রাষ্ট্রনায়ক মওদুদ আহমদের সম্মান ও স্মরণের প্রত্যাশা'

'দলের সরকার নয়, দরকার দশের সরকার'

'দলের সরকার নয়, দরকার দশের সরকার'

'দলের সরকার নয়, দরকার দশের সরকার'

মোহাম্মদ উল্যা মিরাজ

শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী।

গণতন্ত্রের মূল দর্শন হলো,জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতেই থাকা।কিন্তু আমাদের দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রায়ই দেখা যায়, নির্বাচন শেষে যে দল সরকার গঠন করে, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার বড় অংশ সেই দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের হাতেই কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে।

ফলে সাধারণ জনগণ কিংবা ভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষ অনেক সময় বঞ্চনার শিকার হন। এতে রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত সাম্য, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক চর্চা দুর্বল হয়ে পড়ে।

একটি রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন সরকার নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং পুরো জাতির সরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। কিন্তু যখন দলীয় আনুগত্য প্রশাসন, উন্নয়ন, নিয়োগ কিংবা সুযোগ-সুবিধা বণ্টনের প্রধান মানদণ্ড হয়ে দাঁড়ায়, তখন রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর মানুষের আস্থা কমতে শুরু করে।

এর ফলে সমাজে অসন্তোষ বাড়ে, রাজনৈতিক বিভাজন গভীর হয় এবং উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বাধাগ্রস্ত হয়। বাস্তবতা হলো দেশ পরিচালনার দায়িত্ব যাদের হাতে থাকে, তাদের উচিত রাষ্ট্রকে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে রেখে 'দশের সরকার'বা জনগণের সরকার হিসেবে পরিচালনা করা।

কারণ রাষ্ট্রের সম্পদ, উন্নয়ন প্রকল্প, প্রশাসনিক সেবা ও নিরাপত্তা সবকিছুই জনগণের করের অর্থে পরিচালিত। তাই এসবের সুফলও সকল নাগরিকের কাছে সমানভাবে পৌঁছানো উচিত।

রাজনীতির সুস্থ ধারায় ক্ষমতার পালাবদল হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের মৌলিক নীতি ও সেবায় কোনো বৈষম্য থাকা উচিত নয়। উন্নয়ন প্রকল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি

এসব ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় নয়, বরং নাগরিক অধিকারই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি প্রশাসন, সুশীল সমাজ ও নাগরিকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রশাসনকে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে, রাজনৈতিক দলগুলোকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে আস্থা রাখতে হবে এবং নাগরিকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

তাহলেই রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সমতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা পাবে। দেশের অগ্রগতি, শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া সময়ের দাবি।

একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র তখনই গড়ে উঠবে, যখন সরকার হবে কেবল কোনো দলের নয়,সমগ্র জনগণের, অর্থাৎ'দশের সরকার'।

সুতরাং, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এমন এক পরিবর্তন আনতে হবে, যেখানে ক্ষমতা হবে সেবার মাধ্যম, আধিপত্যের নয়,আর সরকার হবে দলের নয়, জনগণের ন্যায়, সমতা ও উন্নয়নের ভিত্তিতে পরিচালিত একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.