ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : বসুরহাটে যানজট নিরসনে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান, স্বস্তি চায় জনগণ প্রতিবন্ধীদের মাঝে ‘আশার আলো কল্যাণ সংস্থা’র খাদ্য সামগ্রী বিতরণ​: কোম্পানীগঞ্জে খাজা আবুল খায়ের শিক্ষা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিল ১,৭০০ শিক্ষার্থী বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের নোয়াখালী জেলা ও শহর শাখার নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা, চেয়ারম্যান-মেয়র পদে ১১ জন চরফকিরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী নজরুল ইসলাম জহির চরফকিরা ইউপি নির্বাচন: ১১ মনোনয়নপ্রত্যাশী, যোগ্য কে? আসন্ন সিরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় মোহাম্মদনগরের আলহাজ্জ আব্দুস ছাত্তার কাজীরহাটে মুক্ত পাঠাগারের কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা আহত প্রধান শিক্ষক আমির হোসেনের বাসায় ঐক্যজোট নেতৃবৃন্দ :দ্রুত সুস্থতা কামনা

জাতীয় শিক্ষক দিবস: শিক্ষক শুধু পাঠদানকারী নন, জাতি গঠনের কারিগর

জাতীয় শিক্ষক দিবস: শিক্ষক শুধু পাঠদানকারী নন, জাতি গঠনের কারিগর

জাতীয় শিক্ষক দিবস: শিক্ষক শুধু পাঠদানকারী নন, জাতি গঠনের কারিগর

আজ ৫ অক্টোবর—জাতীয় শিক্ষক দিবস। এই দিনটি শুধু শিক্ষকদের অভিনন্দন জানানোর দিন নয়; বরং শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা, দায়িত্ব, সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে ভাবার দিন। একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি, একটি জাতির ভবিষ্যৎ কতটা আলোকিত হবে, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে তার শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষকদের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর।

একজন শিক্ষক কেবল শ্রেণিকক্ষে পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান বিতরণ করেন না। তিনি একজন শিক্ষার্থীর চিন্তা, বিবেক, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একটি শিশুর জীবনে পরিবারের পর সবচেয়ে গভীর প্রভাব বিস্তার করেন তার শিক্ষক। তাই শিক্ষককে যথার্থ অর্থেই বলা হয় জাতি গঠনের কারিগর।

বর্তমান সময়ে শিক্ষাব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিশ্বায়ন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিক্ষার্থীদের চিন্তা ও জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষককেও নিজেকে প্রতিনিয়ত জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করতে হচ্ছে। একজন আধুনিক শিক্ষককে এখন শুধু ভালো পাঠদান করলেই হয় না; শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশ, নৈতিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সঠিক দিকনির্দেশনাও দিতে হয়।

তবে বাস্তবতা হলো, শিক্ষকতার দায়িত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশাসনিক জটিলতা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা, পদোন্নতির সুযোগের সংকট এবং পেশাগত মর্যাদা নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন। অথচ একজন শিক্ষক যখন শ্রেণিকক্ষে দাঁড়ান, তখন তার ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তা ভুলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে মনোযোগ দিতে হয়।

শিক্ষকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা প্রত্যাশা করতে হলে রাষ্ট্র ও সমাজকেও শিক্ষকের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকের আর্থিক স্বচ্ছলতা শুধু একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি শিক্ষার মানের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। একজন নিশ্চিন্ত, মর্যাদাবান ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকই শিক্ষার্থীদের সর্বোত্তম শিক্ষা দিতে পারেন।

একই সঙ্গে শিক্ষকদেরও নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন হতে হবে। শিক্ষকতা শুধু চাকরি নয়—এটি একটি মহান পেশা এবং সামাজিক অঙ্গীকার। সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়া, আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করা, শিক্ষার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণ করা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো, নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং নিজের জ্ঞানকে নিয়মিত সমৃদ্ধ করা—এসবই একজন আদর্শ শিক্ষকের দায়িত্ব।

আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি ভালো বিদ্যালয় শুধু ভালো ফলাফল তৈরি করে না; ভালো মানুষ তৈরি করে। আর ভালো মানুষই একটি সুন্দর সমাজ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের ভিত্তি নির্মাণ করে। তাই শিক্ষার মূল লক্ষ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নয়, বরং জ্ঞানী, নৈতিক, মানবিক, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি করা।

জাতীয় শিক্ষক দিবসে আমার প্রত্যাশা—শিক্ষককে শুধু বক্তৃতা ও শুভেচ্ছার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনে তার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা হোক। শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার, আধুনিক প্রশিক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে শিক্ষকরাও নিজেদের দায়িত্ব ও জবাবদিহির জায়গা থেকে আরও নিষ্ঠাবান হোন।

কারণ একজন চিকিৎসক একজন মানুষের জীবন রক্ষা করেন, একজন প্রকৌশলী অবকাঠামো নির্মাণ করেন; কিন্তু একজন শিক্ষক এমন মানুষ তৈরি করেন, যারা ভবিষ্যতে একটি দেশকে নেতৃত্ব দেয়।

তাই শিক্ষককে সম্মান করা মানে শুধু একজন মানুষকে সম্মান করা নয়—একটি জাতির ভবিষ্যৎকে সম্মান করা।

জাতীয় শিক্ষক দিবসে দেশের সব শিক্ষককে আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা। শিক্ষক হোক মর্যাদার প্রতীক, শিক্ষা হোক জাতির অগ্রযাত্রার প্রধান শক্তি।

মোহাম্মদ উল্যা

শিক্ষক,সাংবাদিক ও লেখক

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.