ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : বসুরহাটে যানজট নিরসনে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান, স্বস্তি চায় জনগণ প্রতিবন্ধীদের মাঝে ‘আশার আলো কল্যাণ সংস্থা’র খাদ্য সামগ্রী বিতরণ​: কোম্পানীগঞ্জে খাজা আবুল খায়ের শিক্ষা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিল ১,৭০০ শিক্ষার্থী বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের নোয়াখালী জেলা ও শহর শাখার নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা, চেয়ারম্যান-মেয়র পদে ১১ জন চরফকিরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী নজরুল ইসলাম জহির চরফকিরা ইউপি নির্বাচন: ১১ মনোনয়নপ্রত্যাশী, যোগ্য কে? আসন্ন সিরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় মোহাম্মদনগরের আলহাজ্জ আব্দুস ছাত্তার কাজীরহাটে মুক্ত পাঠাগারের কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা আহত প্রধান শিক্ষক আমির হোসেনের বাসায় ঐক্যজোট নেতৃবৃন্দ :দ্রুত সুস্থতা কামনা

একজনের মৃত্যু, বাড়ছে আতঙ্ক; ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোম্পানীগঞ্জে কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন

একজনের মৃত্যু, বাড়ছে আতঙ্ক; ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোম্পানীগঞ্জে কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন

একজনের মৃত্যু, বাড়ছে আতঙ্ক; ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোম্পানীগঞ্জে কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন

শাহাদাত হোসেন

নব জ্যোতি ডেস্ক:

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। ইতোমধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

২০২৬ সালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দৃশ্যমান ও নিয়মিত কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কোম্পানীগঞ্জে আবু নাছের ওরফে সোহাগ (৪৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে থাকা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পরিত্যক্ত পাত্র ও অন্যান্য সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল থাকলেও এখন পর্যন্ত ব্যাপকভাবে মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান কিংবা জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম তেমন চোখে পড়ছে না। এতে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩২ হাজার ২৪৮ জন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৮৮ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এবারের ডেঙ্গু পরিস্থিতি শুধু রাজধানী বা বড় শহরকেন্দ্রিক নয়; দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটছে। চলতি বছর ঢাকার বাইরে খুলনা, চট্টগ্রাম, পিরোজপুর ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি বিভিন্ন স্থানে জমে থাকায় এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র, ফুলের টব, নির্মাণাধীন স্থাপনা ও বিভিন্ন আবর্জনাস্থল এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে।

কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাতেও এমন ঝুঁকিপূর্ণ স্থান রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা জরুরি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, একজনের মৃত্যুর পরও যদি ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে কেন?

সচেতন মহল বলছে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করলেই হবে না। একই সঙ্গে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, নজরদারি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কোম্পানীগঞ্জে দ্রুত মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা হবে। পাশাপাশি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে নিয়মিত নজরদারি এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে।

সচেতন মহলের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ডেঙ্গুর বিস্তার আরও বাড়তে পারে। তাই জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে দ্রুত, নিয়মিত ও দৃশ্যমান প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.