ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : বসুরহাটে যানজট নিরসনে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান, স্বস্তি চায় জনগণ প্রতিবন্ধীদের মাঝে ‘আশার আলো কল্যাণ সংস্থা’র খাদ্য সামগ্রী বিতরণ​: কোম্পানীগঞ্জে খাজা আবুল খায়ের শিক্ষা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিল ১,৭০০ শিক্ষার্থী বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের নোয়াখালী জেলা ও শহর শাখার নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা, চেয়ারম্যান-মেয়র পদে ১১ জন চরফকিরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী নজরুল ইসলাম জহির চরফকিরা ইউপি নির্বাচন: ১১ মনোনয়নপ্রত্যাশী, যোগ্য কে? আসন্ন সিরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় মোহাম্মদনগরের আলহাজ্জ আব্দুস ছাত্তার কাজীরহাটে মুক্ত পাঠাগারের কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা আহত প্রধান শিক্ষক আমির হোসেনের বাসায় ঐক্যজোট নেতৃবৃন্দ :দ্রুত সুস্থতা কামনা

আজ বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবস: আবেগ নয়,সম্পর্ক হোক দায়িত্বশীল

আজ বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবস: আবেগ নয়,সম্পর্ক হোক দায়িত্বশীল

আজ বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবস: আবেগ নয়,সম্পর্ক হোক দায়িত্বশীল

মোহাম্মদ উল্যা

বিশেষ প্রতিনিধি

কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী।

প্রতি বছর ৩ অক্টোবর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পালিত হচ্ছে কথিত ‘বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবস’। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এ দিবসকে স্বীকৃতি দিয়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর একটি অনানুষ্ঠানিক দিবস হিসেবেই এর প্রচলন। তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ভালোবাসা, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক যত্নের অনুভূতি প্রকাশের একটি উপলক্ষ হিসেবে দিনটি পরিচিতি পেয়েছে।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে সম্পর্কের প্রকাশ অনেকটাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রিয় মানুষের সঙ্গে ছবি, ভিডিও, শুভেচ্ছাবার্তা ও স্মৃতিচারণের মাধ্যমে অনেকে দিনটি উদযাপন করেন। কেউ উপহার দেন, কেউ চিঠি লেখেন, আবার কেউ প্রিয়জনকে সময় দেওয়াকেই সবচেয়ে বড় উপহার হিসেবে বিবেচনা করেন।

তবে ভালোবাসার সম্পর্ককে কেবল ছবি, উপহার কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। একটি সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি হলো পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস, দায়িত্ববোধ, সততা, ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রতি শ্রদ্ধা এবং কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে থাকা। সম্পর্কের নাম ‘বয়ফ্রেন্ড’ কিংবা ‘গার্লফ্রেন্ড’ যা-ই হোক, কোনো পক্ষের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, মানসিক চাপ সৃষ্টি, অপমান, প্রতারণা, হুমকি কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার মতো আচরণ কখনোই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হতে পারে না।

বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সম্পর্কের ছবি বা ভিডিও দেখে নিজের সম্পর্কের সঙ্গে তুলনা করা অনেক সময় অযথা প্রত্যাশা ও হতাশা তৈরি করতে পারে। অনলাইনে দেখা একটি সম্পর্কের সম্পূর্ণ বাস্তবতা কখনোই কয়েকটি ছবি বা ভিডিও দিয়ে বোঝা সম্ভব নয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রদর্শন নয়, বাস্তব জীবনের আচরণ দিয়েই সম্পর্কের গভীরতা বিচার করা উচিত।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইনে পরিচয়ের পর আবেগের বশে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, পাসওয়ার্ড, আর্থিক তথ্য বা অন্য কোনো সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হলে এসব তথ্য অপব্যবহারের আশঙ্কাও থাকে। ফলে ভালোবাসার পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়েও সচেতন থাকা প্রয়োজন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সম্মতি। কোনো সম্পর্কই একজন ব্যক্তিকে অন্যজনের ওপর অধিকার বা জবরদস্তির বৈধতা দেয় না। দেখা করা, ছবি তোলা, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা কিংবা শারীরিক ঘনিষ্ঠতা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই উভয় পক্ষের স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি প্রয়োজন। সম্পর্কের প্রতি সম্মান মানে অপর পক্ষের ‘না’ বলার অধিকারকেও সম্মান করা।

‘বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবস’ তাই নিছক একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রেন্ড হিসেবে না দেখে তরুণ প্রজন্মের জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্বশীলতা ও নিরাপদ সম্পর্কের বার্তা প্রচারের একটি উপলক্ষ হতে পারে। প্রিয় মানুষকে দামি উপহার দেওয়ার চেয়ে তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, সংকটে পাশে দাঁড়ানো, ভুল হলে ক্ষমা চাওয়া, ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে সম্মান করা এবং প্রতারণা থেকে দূরে থাকাই হতে পারে সম্পর্কের সবচেয়ে মূল্যবান প্রকাশ।

ভালোবাসা কোনো একদিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি প্রতিদিনের আচরণে প্রকাশ পায়। ৩ অক্টোবরের একটি পোস্ট, ছবি কিংবা উপহার হয়তো সাময়িক আনন্দ দিতে পারে, কিন্তু একটি সুন্দর ও সুস্থ সম্পর্ক টিকে থাকে বিশ্বাস, সম্মান, সততা এবং দায়িত্বশীলতার ওপর। তাই দিবস উদযাপনের পাশাপাশি প্রয়োজন সচেতনতা—ভালোবাসা যেন কখনো অধিকারবোধে, আবেগ যেন কখনো নিয়ন্ত্রণে এবং সম্পর্ক যেন কখনো প্রতারণা বা হয়রানির কারণ না হয়ে ওঠে।

দিবসের মূল শিক্ষা হতে পারে একটাই—ভালোবাসা প্রকাশের চেয়ে ভালোবাসার মানুষটির প্রতি দায়িত্বশীল হওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.