ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : 'দলের সরকার নয়, দরকার দশের সরকার' চরপার্বতীতে নুর আলম মেম্বারের আয়োজনে বর্ণাঢ্য ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত: কোম্পানীগঞ্জে পৌর বিএনপি সদস্য সচিব মামুনের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ: 'কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে নতুন কমিটি গঠন,ইফতারে সাংবাদিকদের মিলনমেলা' 'সাংবাদিকদের সম্মানে কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতের ইফতার ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত' 'আলহাজ্ব আব্দুস সাওারের উদ্যোগে বিশাল ইফতার ও মেজবানী আয়োজন' ইঞ্জিনিয়ার নওশাদের আয়োজনে কোম্পানীগঞ্জে সাংবাদিকদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত : কোম্পানীগঞ্জে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত: 'দল প্রথা নিপাত যাক, বাংলাদেশ প্রথা জিতে যাক' 'রাষ্ট্রনায়ক মওদুদ আহমদের সম্মান ও স্মরণের প্রত্যাশা'

নাল খাল জমি থেকে মাটি কাটা আইন অপরাধ ও আমাদের করণীয়:

নাল খাল জমি থেকে মাটি কাটা আইন অপরাধ ও আমাদের করণীয়:

নাল খাল জমি থেকে মাটি কাটা আইন অপরাধ ও আমাদের করণীয়:

বাংলাদেশের গ্রাম ও মফস্বল এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে নাল, খাল, রাস্তার পাশের জমি ও কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রবণতা ভয়াবহভাবে বেড়েছে।

কোথাও বসতবাড়ি ভরাট, কোথাও ইটভাটা বা ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন ট্রাকভর্তি মাটি কাটা হচ্ছে। এতে যেমন পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি নষ্ট হচ্ছে কৃষিজমি ও জনস্বার্থ।

অথচ অনেকেই জানেন না,এই কাজ রাষ্ট্রীয় আইনে গুরুতর অপরাধ। মাটি কাটার বিষয়ে আইন কী বলে

বাংলাদেশে মাটি ও বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণে প্রধান আইন হলো বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০। এই আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে,

সরকারি অনুমোদন বা ইজারা ছাড়া কোথাও থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন, পরিবহন ও বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ।

বিশেষ করে খাল, নাল, নদী, খাস জমি ও সরকারি জলাশয় থেকে মাটি কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ যদি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে মাটি কাটে, তবে তার বিরুদ্ধে জরিমানা, কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমান আদালত তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে।

অর্থাৎ, স্থানীয়ভাবে 'সবার সম্মতি আছে' বা কারও জমি থেকেই কাটা হচ্ছে” এ ধরনের যুক্তি আইনের চোখে গ্রহণযোগ্য নয়।

কৃষি বা ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা আরও গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন করে বা জমির উর্বর টপসয়েল কেটে নেওয়া আইনভঙ্গ। এতে জমির উৎপাদন ক্ষমতা নষ্ট হয়, যা দেশের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য হুমকি।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কৃষক নিজেই কিছু টাকার লোভে জমি থেকে মাটি কাটার অনুমতি দেন। কিন্তু কৃষকের সম্মতি থাকলেও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে মাটি বিক্রি আইনসিদ্ধ নয়, যদি না সরকারের নির্দিষ্ট অনুমোদন থাকে।

ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালত জরিমানা ও মামলা করেছে,যা এ অপরাধের বাস্তব নজির।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের দৃষ্টিতে মাটি কাটা

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী পরিবেশের ক্ষতি করে এমন যেকোনো কাজ অবৈধ।

খাল ভরাট, জলপ্রবাহ নষ্ট করা, অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটা এসব সরাসরি পরিবেশ ধ্বংসের শামিল। এই ধরনের অপরাধে পরিবেশ অধিদপ্তর জরিমানা করতে পারে এবং নিয়মিত মামলা দায়েরের ক্ষমতা রাখে।

খাল বা নাল ভরাটের ফলে জলাবদ্ধতা, বন্যা ও কৃষি ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে যার ভোগান্তি পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।

বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুসারে যদি মাটি কাটার ফলে জনসাধারণের ক্ষতি হয়, সরকারি সম্পদ নষ্ট হয় বা পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়, তবে সেটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

এ ক্ষেত্রে নিয়মিত থানায় মামলা দায়ের হতে পারে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে বিচারাধীন হন।

আইনের সারকথা নাল বা খাল থেকে অনুমতি ছাড়া মাটি কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ কৃষিজমি থেকে ব্যবসায়িকভাবে মাটি কাটা অপরাধ কৃষকের অনুমতি থাকলেও সরকারি অনুমোদন ছাড়া মাটি বিক্রি আইনসিদ্ধ নয় পরিবেশ ও জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলে শাস্তি আরও কঠোর হতে পারে।

অবৈধ মাটি কাটা শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়

এটি পরিবেশ, কৃষি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি। তাই আপনার এলাকায় কোথাও অনুমতি ছাড়া মাটি কাটা হলে তা নীরবে মেনে নেবেন না।

স্থানীয় প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা পরিবেশ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানান।

প্রয়োজনে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান দাবি করুন।

মনে রাখবেন, এ ধরনের অপরাধে জেল ও জরিমান দুটোই হতে পারে।

আইন জানা থাকলে অন্যায় প্রতিরোধ করা সহজ হয়। নাল খাল জমি রক্ষা করা মানে পরিবেশ, কৃষি ও জনস্বার্থ রক্ষা করা এ দায়িত্ব আমাদের সবার।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.